৭ পাসপোর্টসহ পাটগ্রাম সীমান্তে আটক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি সাব্বির বিন শামস | Nublog360

৭ পাসপোর্টসহ সীমান্তে আটক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি সাব্বির বিন শামস — Nublog360
⚡ Breaking News
৭ পাসপোর্টসহ সীমান্তে আটক
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি
দুদকের মামলার আসামি সাব্বির বিন শামস ভারত থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশে ধরা
🔴 জাতীয় সংবাদ

৭ পাসপোর্টসহ পাটগ্রাম সীমান্তে আটক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক ডিজি সাব্বির বিন শামস — দুদকের মামলার আসামি ভারত থেকে অবৈধভাবে দেশে ঢুকছিলেন

বাংলাদেশের ইতিহাসে বিদেশে পলাতক সরকারি কর্মকর্তাদের ধরা পড়ার ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু ৭টি পাসপোর্ট বহন করে ভারত থেকে সীমান্ত পথে চুপিসারে দেশে ফেরার চেষ্টায় ধরা পড়া — এই ঘটনাটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তের দহগ্রাম এলাকায় শনিবার দুপুরে এমনই এক নাটকীয় ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) সাব্বির বিন শামস।

🔴 সংক্ষেপে মূল তথ্য
  • গ্রেফতার: সাব্বির বিন শামস, সাবেক মহাপরিচালক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  • স্থান: পাটগ্রাম উপজেলা, দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সীমান্ত, লালমনিরহাট
  • উদ্ধার: ২টি কূটনৈতিক পাসপোর্টসহ মোট ৭টি পাসপোর্ট
  • পরিচয়: আওয়ামী লীগ আমলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি ও লন্ডন হাইকমিশনে মিনিস্টার
  • বাড়ি: লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকা, মৃত শামসুল হুদা বকসির ছেলে
  • মামলা: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা বিদ্যমান
  • বর্তমান অবস্থা: জেলা গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

যেভাবে আটক হলেন সাব্বির বিন শামস

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত একজন লোককে ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার চলাফেরা ও আচরণ স্বাভাবিক মনে না হওয়ায় সন্দেহ তৈরি হয়। দেরি না করে তারা বিষয়টি পাটগ্রাম থানা পুলিশকে জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই তিনি নিজেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক মহাপরিচালক হিসেবে পরিচয় দেন। তল্লাশিতে তার কাছ থেকে বেরিয়ে আসে চমকে দেওয়ার মতো তথ্য — একসাথে ৭টি পাসপোর্ট, যার মধ্যে দুটি কূটনৈতিক পাসপোর্টও রয়েছে।

"দহগ্রাম সীমান্ত হয়ে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের পর সন্দেহ হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে তাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা শাখায় পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রয়েছে।"

— মো. আসাদুজ্জামান, পুলিশ সুপার, লালমনিরহাট

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাব্বিরকে আটক করা হয়। পরে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালমনিরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

কে এই সাব্বির বিন শামস?

লালমনিরহাট শহরের কালীবাড়ী এলাকার মৃত শামসুল হুদা বকসির ছেলে সাব্বির বিন শামস বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হিসেবেই নয়, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

📋 সাব্বির বিন শামসের পরিচয়

পদ ১: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) — চুক্তিভিত্তিক, তিন বছর মেয়াদ

পদ ২: লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনে 'মিনিস্টার' — চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ

পদ ৩: আওয়ামী লীগের গবেষণা সংস্থা সিআরআই (CRI)-এর নির্বাহী পরিচালক

বর্তমান অবস্থা: দুদকের মামলার আসামি, ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

উল্লেখযোগ্য যে, সাব্বির বিন শামস ছিলেন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বলয়ের মানুষ। দলের চিন্তা-গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা সরাসরি সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের সাথে যুক্ত ছিল। পরবর্তীতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনেও কাজ করেছেন।

৭টি পাসপোর্ট — এত পাসপোর্ট কেন?

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, একজন ব্যক্তির কাছে একসাথে ৭টি পাসপোর্ট কেন থাকবে? সাধারণ নাগরিকের একটিই পাসপোর্ট থাকে। সাব্বির বিন শামসের কাছে থেকে উদ্ধার হওয়া পাসপোর্টগুলোর মধ্যে দুটি ছিল কূটনৈতিক পাসপোর্ট, বাকিগুলো সাধারণ পাসপোর্ট।

কূটনৈতিক পাসপোর্ট সাধারণত সরকারি দায়িত্বপালনের জন্য বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পান। একাধিক পাসপোর্ট রাখার বিষয়টি পলাতক ব্যক্তিদের পরিচয় গোপন করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াতের কৌশল হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়।

⚠️ তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো

▸ কোথা থেকে এবং কীভাবে এই সাতটি পাসপোর্ট সংগ্রহ করা হয়েছিল?

▸ কূটনৈতিক পাসপোর্ট দুটি কি তিনি নিজে ব্যবহার করতেন, নাকি অন্য কারো জন্য?

▸ আগস্ট বিপ্লবের পর থেকে তিনি কোথায় ছিলেন, কীভাবে ভারত পৌঁছেছিলেন?

▸ দুদকের মামলা এড়াতে তিনি কি সীমান্তের মাধ্যমে গোপনে দেশ ছেড়েছিলেন?

▸ আরও কোনো পলাতক ব্যক্তির সাথে তার যোগাযোগ ছিল কি?

দহগ্রাম সীমান্ত — পলায়নের পুরনো রুট

দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা বাংলাদেশের একটি বিশেষ ছিটমহল এলাকা, যা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কোচবিহার জেলায় অবস্থিত। এই সীমান্তপথটি ঐতিহাসিকভাবে কিছুটা জটিল ভৌগোলিক কারণে কড়া নজরদারির বাইরে থাকার কথা থাকলেও সাম্প্রতিক বছরে বিজিবি ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

গত বছর আগস্ট বিপ্লবের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে সাব্বির বিন শামসের ভারত থেকে ফেরার কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

দুদকের মামলা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে সাব্বির বিন শামসের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা রয়েছে। আটকের পর তাকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলা ও অভিযোগের বিস্তারিত খতিয়ে দেখার পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

⚖️ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
  • ডিবি পুলিশে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলমান
  • দুদকের মামলা সম্পর্কিত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে
  • ৭টি পাসপোর্টের উৎস ও বৈধতা তদন্ত করা হবে
  • জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া শুরু হবে
  • অবৈধ সীমান্ত অনুপ্রবেশের পৃথক মামলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

স্থানীয় জনগণের সতর্কতায় সফল গ্রেফতার

এই ঘটনায় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো স্থানীয় জনগণের সজাগ দৃষ্টি। সীমান্তবর্তী দহগ্রাম এলাকার বাসিন্দারা সন্দেহজনক চলাফেরা দেখে দ্রুত পুলিশকে সংবাদ দিয়েছেন। তাদের সচেতনতাই এই উচ্চপদস্থ পলাতক কর্মকর্তার গ্রেফতার নিশ্চিত করেছে।

একজন সরকারি কর্মকর্তা, যিনি একসময় রাষ্ট্রের কূটনীতি পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন, তিনি ৭টি পাসপোর্ট বহন করে সীমান্ত দিয়ে চোরাপথে দেশে প্রবেশের চেষ্টা করছেন — এই ঘটনাটি রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসভঙ্গের প্রতীক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

সম্পাদকীয় নোট: এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য জাতীয় দৈনিকের সংবাদ ও পুলিশ সূত্রের উপর ভিত্তি করে তৈরি। তদন্ত চলমান থাকায় পরবর্তীতে নতুন তথ্য সংযোজিত হতে পারে।