জেরুজালেম বিমানবন্দর 'ইহুদীকরণ': ফিলিস্তিনের ইতিহাস মুছে দেওয়ার নতুন ষড়যন্ত্র

জেরুজালেম বিমানবন্দর 'ইহুদীকরণ': ফিলিস্তিনের ইতিহাস মুছে দেওয়ার নতুন ষড়যন্ত্র
⚡ ব্রেকিং জেরুজালেম বিমানবন্দর 'ইহুদীকরণ' — ফিলিস্তিনের ইতিহাস মুছে দেওয়ার নতুন পরিকল্পনা ইসরায়েলের
আন্তর্জাতিক সংবাদ

জেরুজালেম বিমানবন্দর 'ইহুদীকরণ': ফিলিস্তিনের ইতিহাস মুছে দেওয়ার নতুন ষড়যন্ত্র

১৯২০ সালে নির্মিত ঐতিহাসিক জেরুজালেম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে 'ইহুদি হেরিটেজ সেন্টার'-এ পরিণত করার পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। ফিলিস্তিনিরা বলছেন — এটা কেবল একটি ভবন দখল নয়, এটা একটি জাতির স্মৃতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা।

🇵🇸
জেরুজালেম বিমানবন্দর
'ইহুদীকরণ' পরিকল্পনা ইসরায়েলের
আন্তর্জাতিক সংবাদ | Nublog360
প্রতীকী ছবি — কালান্দিয়ায় অবস্থিত পরিত্যক্ত জেরুজালেম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ভবন

ফিলিস্তিনের মাটি, ঘরবাড়ি, মসজিদ — একে একে সব কিছু কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এবার পালা ইতিহাসের। অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের কালান্দিয়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক জেরুজালেম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে 'ইহুদি হেরিটেজ সেন্টার'-এ রূপান্তরিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। এই পরিকল্পনা শুধু একটি পুরনো ভবনের ভাগ্য পরিবর্তনের বিষয় নয় — এটি ফিলিস্তিনি জাতির সার্বভৌমত্বের শেষ প্রতীকগুলোর একটিকে মুছে দেওয়ার সুচিন্তিত পদক্ষেপ।

📋 সংবাদের মূল তথ্য
  • পরিকল্পনাকারী: ইসরায়েলি হেরিটেজ মন্ত্রী রাব্বি আমিচাই এলিয়াহু
  • বরাদ্দ: ৩০ লাখ শেকেল (প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলার)
  • বাজেট: ২০২৬ সালের হেরিটেজ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত বাজেট থেকে
  • স্থান: কালান্দিয়া, উত্তর পূর্ব জেরুজালেম (রামাল্লাহ সীমান্ত সংলগ্ন)
  • উপলক্ষ: অপারেশন এন্টেবির ৫০তম বার্ষিকী
  • প্রতিবাদ: জেরুজালেম গভর্নরেট, ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ, জাতিসংঘ

✈️ বিমানবন্দরটির ইতিহাস: এটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

জেরুজালেম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর — যা আটারোট বিমানবন্দর নামেও পরিচিত — এর ইতিহাস শুধু একটি বিমানবন্দরের ইতিহাস নয়, এটি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার স্বপ্নের ইতিহাস।

🕰️ বিমানবন্দরের কালপঞ্জি
১৯২০
বিমানবন্দরটি প্রথম নির্মিত হয়। ব্রিটিশ ম্যান্ডেট কর্তৃপক্ষ ১৯২৪ সাল থেকে এটি ব্যবহার শুরু করে।
১৯৩৬
নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হয়। ফিলিস্তিনের একমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে মর্যাদা পায়।
১৯৪৮–৬৭
জর্ডানের নিয়ন্ত্রণে রয়্যাল জর্ডানিয়ান ও লেবানিজ এয়ারলাইন্স নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করে।
১৯৬৭
ছয় দিনের যুদ্ধের পর ইসরায়েল বিমানবন্দর দখল করে নেয়। সীমিত আকারে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু রাখে।
২০০০
ইসরায়েল বিমানবন্দরটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।
২০২৬
ইসরায়েল ভবনটিকে 'ইহুদি হেরিটেজ সেন্টার'-এ রূপান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা করে।

ফিলিস্তিনিদের কাছে এই বিমানবন্দরটি শুধু একটি স্থাপনা নয় — এটি তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের সম্ভাব্য সার্বভৌমত্বের প্রতীক। যেকোনো শান্তি আলোচনায় এই বিমানবন্দরকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

🏛️ কী বানাতে চাইছে ইসরায়েল?

ইসরায়েলি হেরিটেজ মন্ত্রী রাব্বি আমিচাই এলিয়াহুর প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্রিটিশ ম্যান্ডেট আমলে নির্মিত ও জর্ডানি শাসনে সম্প্রসারিত বিমানবন্দরের ঐতিহাসিক রিসেপশন ভবনটিকে একটি 'হেরিটেজ, পর্যটন ও শিক্ষাকেন্দ্র'-এ পরিণত করা হবে।

"প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রটি জেরুজালেম সম্পর্কে ইসরায়েলি বর্ণনাকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে।"

— জেরুজালেম গভর্নরেটের সতর্কতামূলক বিবৃতি

অর্থাৎ এই 'হেরিটেজ সেন্টার' আসলে ইতিহাস সংরক্ষণের জায়গা নয় — এটি ইসরায়েলি দৃষ্টিকোণ থেকে জেরুজালেমের ইতিহাস নতুন করে লেখার একটি প্রকল্প, যেখানে ফিলিস্তিনের অস্তিত্বকে মুছে ফেলা হবে।

⚠️ এর আগেও ছিল বড় পরিকল্পনা

এই হেরিটেজ সেন্টার পরিকল্পনা হঠাৎ করে আসেনি। এর আগে ইসরায়েলি সরকার একই বিমানবন্দর এলাকায় প্রায় ৯ হাজার আবাসিক ইউনিটের একটি বিশাল অবৈধ বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছিল।

⚠️ বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণ: আল জাজিরার বিশ্লেষকদের মতে, বিমানবন্দর এলাকায় ইসরায়েলের এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো উত্তর জেরুজালেমকে রামাল্লাহ থেকে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে একটি সম্পূর্ণ ইসরায়েলি ছিটমহলে পরিণত করা।

🌍 আন্তর্জাতিক আইন কী বলছে?

🇺🇳 জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতের অবস্থান

জাতিসংঘ পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ অবৈধ। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (ICJ) ঐতিহাসিক রায়ে ঘোষণা করে — ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব অবৈধ এবং পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের সকল বসতি থেকে ইসরায়েলকে সরে যেতে হবে।

তবু ইসরায়েল আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে একের পর এক পদক্ষেপ নিয়েই চলেছে। এই হেরিটেজ সেন্টার পরিকল্পনা তারই সর্বশেষ উদাহরণ।

😠 ফিলিস্তিনিদের প্রতিক্রিয়া

জেরুজালেম গভর্নরেট এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। তারা বলছে — ইসরায়েল এখন আর "ধীরে ধীরে সম্প্রসারণ" নীতি থেকে সরে এসে জেরুজালেমকে তার ফিলিস্তিনি পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পথে হাঁটছে।

ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘ দশকগুলো ধরে বলে আসছেন — ইসরায়েল বসতি স্থাপন ও উচ্ছেদ নীতির মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেমের আরব ও ইসলামিক পরিচয় ধ্বংস করতে চাইছে, যা শান্তি ও দুই-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে একেবারে শেষ করে দিচ্ছে।

📌 উপসংহার: ইতিহাস মুছলেই কি সত্য মুছে যায়?

একটি ভবন দখল করা যায়, নাম পাল্টানো যায়, নতুন সাইনবোর্ড লাগানো যায় — কিন্তু ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। ১৯২০ সালে যে মাটিতে ফিলিস্তিনের প্রথম বিমানবন্দর নির্মিত হয়েছিল, সেই মাটি তার স্মৃতি বুকে ধরে রাখবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে ইসরায়েল প্রতিদিন ফিলিস্তিনের একটু একটু করে ইতিহাস মুছে দিচ্ছে। এই বিমানবন্দর পরিকল্পনা সেই দীর্ঘ প্রক্রিয়ারই নতুন অধ্যায়। বিশ্ব বিবেক কি আর কতদিন নীরব থাকবে?

✦ ✦ ✦

🏷 ট্যাগ:

জেরুজালেম ইহুদীকরণ ফিলিস্তিন ইসরায়েল আল কুদস আন্তর্জাতিক সংবাদ ICJ রায়

© Nublog360 — সত্য ও বিশ্বাসযোগ্য সংবাদের প্ল্যাটফর্ম