নাকবা দিবস: ৭৮ বছরের বেদনা, ফিলিস্তিনের অস্তিত্বের লড়াই ও মুসলিম উম্মাহর দায়
১৯৪৮ সালের ১৫ মে — সেদিন ৭ লক্ষ ফিলিস্তিনি তাদের পূর্বপুরুষের ভিটামাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছিলেন। ৭৮ বছর পরেও সেই ক্ষত শুকায়নি — বরং আরও গভীর হয়েছে।
৭৮ বছরের ফিলিস্তিনি মহাবিপর্যয়
"নাকবা" — আরবি ভাষার এই একটি শব্দের ভেতরে লুকিয়ে আছে কোটি মানুষের কান্না, হাজারো পরিবারের উচ্ছেদের যন্ত্রণা এবং একটি জাতির হারিয়ে যাওয়া স্বদেশের স্বপ্ন। আরবিতে "নাকবা" মানে "মহাবিপর্যয়"। প্রতি বছর ১৫ই মে এই দিনটি পালিত হয় — কারণ ঠিক এই দিনেই ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলের অবৈধ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরদিন থেকে শুরু হয়েছিল ফিলিস্তিনি মুসলিমদের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়।
- তারিখ: ১৪ মে ১৯৪৮ — ইসরায়েলের অবৈধ রাষ্ট্র ঘোষণা
- উৎখাত: প্রায় ৭ লক্ষ ফিলিস্তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত
- ধ্বংস: ৫০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি গ্রাম ও শহর মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়
- নাকবা দিবস: প্রতি বছর ১৫ই মে পালিত হয়
- বর্তমান: ফিলিস্তিনি শরণার্থীর সংখ্যা ৫৭ লক্ষেরও বেশি
- দাবি: "প্রত্যাবর্তনের অধিকার" — জাতিসংঘ রেজুলেশন ১৯৪
📅 ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায়
১৯৪৮ সালের আগে ফিলিস্তিন ছিল একটি সমৃদ্ধ ভূমি। মুসলিম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি — সকলে মিলে শত শত বছর ধরে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির মদদে ইউরোপ থেকে ইহুদি অভিবাসীদের দল ফিলিস্তিনে আসতে শুরু করে এবং ধীরে ধীরে একটি সশস্ত্র রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে থাকে।
📖 কুরআনের আলোকে নাকবা
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে অন্যায়ভাবে ভূমি থেকে উৎখাত হওয়া মানুষদের কথা উল্লেখ করেছেন। ফিলিস্তিনিদের অবস্থা এই আয়াতের জীবন্ত উদাহরণ:
এই আয়াত যেন ৭৮ বছর আগের ফিলিস্তিনিদের কথাই বলছে। তাদের একমাত্র অপরাধ ছিল — তারা মুসলিম, তারা আল্লাহকে রব বলে স্বীকার করে। এই কারণেই তাদের ভিটামাটি থেকে উৎখাত করা হয়েছিল।
🇵🇸 নাকবা দিবসে ফিলিস্তিনিরা কী করেন
প্রতি বছর ১৫ই মে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ফিলিস্তিনিরা এবং তাদের সমর্থকরা এই দিনটি পালন করেন। শোক মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ, শহীদদের জন্য দোয়া — এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তারা বিশ্বকে মনে করিয়ে দেন যে ফিলিস্তিন এখনও বেঁচে আছে।
এই দিনে ফিলিস্তিনিরা তাদের ঐতিহ্যের বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহার করে সংহতি প্রকাশ করেন:
এসবের মধ্যে কেফিয়াহ — সেই বিশেষায়িত রুমাল — সবচেয়ে বেশি আলোচিত। গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে এই কেফিয়াহ এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে — আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া — সর্বত্র।
🌍 মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব কী?
নাকবা দিবস শুধু ফিলিস্তিনিদের বিষয় নয় — এটা পুরো মুসলিম উম্মাহর বিষয়। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, মুসলিমরা একটি শরীরের মতো — এক অঙ্গে ব্যথা হলে পুরো শরীর সাড়া দেয়।
✊ নাকবা শেষ নয় — এটা পুনরুত্থানের প্রতিজ্ঞা
৭৮ বছর পরেও ফিলিস্তিনিরা হারিয়ে যায়নি। গাজার ধ্বংসস্তূপের মাঝেও শিশুরা বেঁচে আছে, মায়েরা লড়াই করছে, যুবকরা স্বপ্ন দেখছে। নাকবা দিবস তাই কেবল শোকের দিন নয় — এটি প্রতিজ্ঞার দিন।
ইতিহাস সাক্ষী — সালাউদ্দিন আইয়ুবী একদিন জেরুজালেম মুক্ত করেছিলেন। সেটা অসম্ভব মনে হয়েছিল, কিন্তু হয়েছিল। আল্লাহর উপর ভরসা রেখে, ঐক্যবদ্ধ থেকে লড়াই করলে ফিলিস্তিনও মুক্ত হবে — ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা ফিলিস্তিনের মজলুম মুসলিমদের হেফাজত করুন, শহীদদের জান্নাত নসীব করুন এবং আমাদের সকলকে তাদের জন্য কিছু করার তাওফিক দান করুন। আমীন।
