যাকাতের ফাযাঈল ও মাসাঈল | পর্ব-২: সুফল, কুফল এবং ফরজ হওয়ার শর্তাবলি
সুফল, কুফল ও শর্তাবলি
যাকাত দেওয়ার চারটি বিশেষ সুফল
আল্লাহ তাআলা যাকাতের বিধান দিয়েছেন কারণ এর মধ্যে দাতার জন্যও রয়েছে অপরিসীম কল্যাণ। যাকাত আদায়কারী ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাতে বিশেষ চারটি ফায়দা লাভ করেন:
- ১ সদকা ও যাকাতের মাধ্যমে সম্পদে আল্লাহর বরকত নাজিল হয় — সম্পদ কমে না, বরং বাড়ে।
- ২ যাকাত দেওয়ার ফলে আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয় এবং তাঁর অসন্তুষ্টি দূর হয়ে যায়।
- ৩ কৃপণতা ও লোভের কারণে জাহান্নামে যে আযাবের কথা বলা হয়েছে, যাকাত আদায়ের মাধ্যমে সেই আযাব থেকে মুক্তি মেলে।
- ৪ আসমানের ফেরেশতাগণ যাকাত প্রদানকারীর জন্য প্রতিনিয়ত দোয়া করতে থাকেন।
যাকাত না দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতি
যারা সম্পদ জমা করে রাখে অথচ আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, পবিত্র কুরআনে তাদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। এই ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা সরাসরি কুরআনে ইরশাদ করেছেন:
শুধু কুরআন নয়, হাদিসেও যাকাত না দেওয়ার ভয়াবহ পরিণতির কথা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
যাকাত না দেওয়া কেবল একটি পাপ নয়, এটি ইসলামের ফরজ বিধান অমান্য করা। আলিমদের মতে, যাকাত অস্বীকারকারী কাফির এবং যাকাত আদায় করতে গাফিল থাকা কবিরা গুনাহ।
যাকাতের তিনটি মূল উদ্দেশ্য
আল্লাহ তাআলা এই বিধান কেন দিলেন? শুধু গরিবকে সাহায্য করার জন্য নয় — যাকাতের মূল উদ্দেশ্য আরও গভীর ও ব্যাপক:
১. সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: গরিবের প্রয়োজন পূর্ণ করা, পুঁজিবাদী মানসিকতা ভাঙা এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য তৈরি করা।
২. আত্মিক উন্নতি: নিজের কষ্টোপার্জিত সম্পদ আল্লাহর পথে বিলিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে লোভ ও কার্পণ্যমুক্ত একটি পরিশুদ্ধ আত্মা গড়ে তোলা।
৩. আল্লাহর নৈকট্য লাভ: যাকাত আদায়ের দ্বারা আত্মশক্তি অর্জন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ করা।
কোন কোন সম্পদে যাকাত ফরজ
সাধারণত যেসব সম্পদ বর্ধনশীল বা বর্ধনের যোগ্যতা রাখে, সেসব সম্পদেই যাকাত আবশ্যক হয়। মৌলিকভাবে যাকাতযোগ্য সম্পদ তিন ধরনের:
| সম্পদের ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| স্বর্ণ ও রৌপ্য | নগদ না থাকলেও বর্ধনের যোগ্যতা রাখে, তাই যাকাত ফরজ |
| নগদ মুদ্রা | টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা — নিসাব পরিমাণ হলে যাকাত দিতে হবে |
| ব্যবসায়িক পণ্য | বিক্রয়ের জন্য মজুদ করা যেকোনো দ্রব্য |
| গবাদি পশু | বংশ বিস্তারের জন্য লালিত এবং মাঠে চরানো পশু |
| কৃষি উৎপাদন | ফসল হলে 'উশর' হিসেবে যাকাত আদায় করতে হয় |
যাকাত ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ
প্রতিটি মুসলিমের উপর যাকাত ফরজ নয় — বরং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলেই যাকাত ফরজ হয়। এই শর্তগুলো ব্যক্তি ও সম্পদ — উভয়ের সাথেই সম্পর্কিত।
অমুসলিম, দাস, অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং মাজনুন ব্যক্তির উপর যাকাত ফরজ নয়।

